
2026 চায়না ওপেনের মহিলা একক শিরোপা জেতার পর চেং ছিনওয়েন আবেগভরে ঘরের মাঠে স্বপ্নপূরণের আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, এই বছর তাঁকে অনেক বাধা ও খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, কিন্তু ঘরের দর্শকদের গর্জন আর একসময় শীর্ষে ওঠার বিশ্বাসই তাঁকে চাপ সামলাতে শক্তি দিয়েছে। এই শিরোপা তিনি উৎসর্গ করেছেন মাঠে উপস্থিত সব সমর্থক ও নিজের দলকে, এবং সেই নিজেকে যে কখনো স্বপ্ন ছেড়ে দেয়নি।

সাংবাদিক:
চেং ছিনওয়েন, শুভেচ্ছা। প্রথমেই 2026 চায়না ওপেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অভিনন্দন। আপনি নিজের ইতিহাস গড়েছেন, চায়না ওপেনের ইতিহাসও গড়েছেন। আজ আপনি কীভাবে আবারও নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন এবং নিজের মূল্য প্রমাণ করলেন?
চেং ছিনওয়েন:
আমি বলতে চাই, আজকের ম্যাচটা আসলে খুবই কঠিন ছিল। কারণ আমি জানি আন্দ্রিভা একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, আর আপনারাও দেখেছেন শুরুতেই তিনি ব্রেক পেয়ে যান। সত্যি বলতে, শুরুতে আমি এমনকি ভেবেও উঠতে পারিনি কীভাবে জিতব, শুধু এক পয়েন্ট এক পয়েন্ট করে খেলছিলাম আর নিজেকে বলছিলাম অবশ্যই টিকে থাকতে হবে, হাল ছাড়া যাবে না।
সত্যি বলতে এতগুলো ম্যাচ খেলার পর আমার শরীর ও মন দুটোই ভীষণ ক্লান্ত। কিন্তু যেহেতু এটা চায়না ওপেন, নিজের দেশের মানুষের সামনে, তাই ভেতরে একটা জেদ সবসময় আমাকে ধরে রেখেছিল। তাই এই ম্যাচ জিততে পেরে, নিজের ইতিহাস এবং চীনা টেনিসের ইতিহাস গড়তে পেরে আমি সত্যিই খুব কৃতজ্ঞ, এই সবকিছুর জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
সাংবাদিক:
শেষ মুহূর্তের জয়ের অনুভূতিটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিন। আজ এত ভক্ত আপনাকে সমর্থন করেছেন, যখন আপনি কোর্টে শুয়ে পড়লেন, সেই মুহূর্তে কী দেখলেন?
চেং ছিনওয়েন:
আমি আকাশ দেখলাম, তারপর দেখলাম বিজয়ের আলো। ঠিক যেমন আমার গানের কথায় আছে - ‘স্বপ্নের আলোকবিন্দু’, চায়না ওপেনে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে ধরা বরাবরই আমার স্বপ্নগুলোর একটি ছিল। আমি খুব খুশি যে আমি শুধু ভেবেই থেমে থাকিনি, বরং সত্যিই করে দেখিয়েছি! বিশেষ করে সবার সামনে, এত সমর্থক ভক্ত ও দর্শক বন্ধু, আমার দল, আর আমার বাবা-মাও আজ এখানে আছেন, তাঁরাও এখন ভীষণ উত্তেজিত। সত্যি বলতে, আমার এই শিরোপা সবার জন্য উৎসর্গ করছি, আর উৎসর্গ করছি ছোটবেলার সেই নিজেকে, যে সবসময় স্বপ্নের জন্য পরিশ্রম করে গেছে।
সাংবাদিক/উপস্থাপক:
এ বছর দোহায় প্রত্যাবর্তন থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন পর্যন্ত আপনি অনেক বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এই মুহূর্তে নিজেকে কিছু বলতে চান?
চেং ছিনওয়েন:
আমি শুধু বলতে চাই, জীবনে খারাপ সময় আসা খুবই স্বাভাবিক, গুরুত্বপূর্ণ হলো খারাপ সময়েও অবিরাম পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া। আমার বাবা ওখানে খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন, দুঃখিত... মানে সবসময় দৃঢ় থাকতে হবে, পরিষ্কারভাবে জানতে হবে নিজেকে কী করতে হবে। কারণ আমি জানি আমার উজ্জ্বল মুহূর্ত আসবে, কিন্তু আবার পরের খারাপ সময়ও আসবে, আমি সবসময় এই স্মৃতি দিয়েই নিজেকে টিকিয়ে রাখব, নিজেকে উৎসাহ দেব। ঠিক যেমন 2024 সালে আমার অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া, সেটিও আমার খারাপ সময়ে আমাকে সাহায্য করেছে, আমি বারবার নিজেকে বলেছি: আমি একসময় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, আমি সর্বোচ্চ পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছি, তাই আমি জানি আমি কোন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারি! আমাকে অবশ্যই টিকে থাকতে হবে, আর অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে!
(লিউ শিইয়াও)
শেষ আপডেট: 2026-10-13 17:59